[:bn] চোখ [:]

[:bn] চোখ [:]

February 1, 2018

[:bn]

ডাঃ মুন্সি মনোহর বাবুকে জিজ্ঞাসা করলেন ‘কিছু দেখতে পাচ্ছেন’? মনোহরবাবু বললেন’সব  কিছু  ঝাপসা লাগছে ‘। ডাক্তারবাবু বললেন , ‘অপারেশনের পর  প্রথম প্রথম ঝাপসাই দেখবেন ।পরে আস্তে আস্তে সব স্পষ্ট হয়ে যাবে । এখন ঝাপসা লাগলে ধীরে ধীরে চোখটা বুজিয়ে ফেলুন ।তারপর আবার ধীরে ধীরে খুলুন ‘। মনোহরবাবু তাই করলেন । ডাক্তারবাবু জিজ্ঞাসা করলেন, এবার  ‘কিছু দেখতে পাচ্ছেন’?’  মনোহরবাবু  বললেন  ‘ হ্যাঁ পাচ্ছি ‘। ডাঃ মুন্সির আবার প্রশ্ন ,’কী দেখছেন ?’ মনোহরবাবু  বললেন, ‘একজন অপরিচিত ভদ্রলোক আমার সামনে  কুঁজো হয়ে  দাঁড়িয়ে আছে। মাথায় টাক । খাটো করে ধুতি পরা। তার চোখ  নেই ।’ ডাঃ মুন্সি বিস্মিত হয়ে বললেন , মানে ! আপনার সামনে তো আপনার ছেলে শিবশঙ্কর ও আপনার বৌমা দাঁড়িয়ে আছে ।’মনোহরবাবু আর অপেক্ষা না করেই চোখ বুজলেন ।তারপর আবার চোখ খুললেন ,এবার কি দেখছেন ? ডাক্তারবাবু জিজ্ঞাসা করলেন। মনোহরবাবু  উৎফুল্ল হয়ে বললেন , ঐ  তো আমার ছেলে আর বৌমা কে দেখতে পাচ্ছি।  শিবশঙ্কর বাবার কাছে আসে জিজ্ঞাসা করল ,’বাবা তুমি আমাদের স্পষ্ট  দেখতে পাচ্ছ তো ?  মনোহরবাবু  দাঁড়িয়ে  শিবশঙ্করের শরীর স্পর্শ করে বললেন ,’ হ্যাঁ শিবু  আমি তোমাদের সবাইকে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি । তখন হয়তো কোনো ভুল দেখেছিলাম ।’ ডাঃ মুন্সি  বললেন ,তাই হবে । ‘অপারেশনের পর  উনি প্রথম চোখ খুললেন ,তা কি দেখতে কি দেখেছেন তা তো আর বলা যায় না।’ মনোহরবাবু  আর শিবু একসঙ্গে বলল ,তাই হবে হয়তো ।

মনোহরবাবু গ্রামের মানুষ ।বয়স বাহান্ন -তিপান্ন বছর । পাঁচ ফুট সাড়ে ছয় ইঞ্চি হাইট, গায়ের রং তামাটে । দেখলেই বোঝা যায় তিনি এই বয়সেও বেশ কর্মঠ ।
মনোহরবাবুর স্ত্রী অনেক দিন হলো গিয়েছেন । শিবশংকরের বয়স তখন এগারো কি বারো হবে ।মনোহরবাবু আর বিয়ে করেননি । মানুষের মত মানুষ হয়েছে শিবু । সে এখন উদয়নারায়নপুর কলেজের ইতিহাসের অধ্যাপক।
এই বয়সেও মনোহরবাবু যথেষ্ট পরিশ্রম করেন । তাঁর সামান্য জমিজমা আছে, তা তিনি নিজেই সামলান। শিবু বাবাকে অনেকবার বারণ করেছে ,তিনি কোনো কথা শোনেননি । তিনি বলেন ‘ঘরে বসে চুপচাপ আরাম কেদারায় থাকা আমার দ্বারা সম্ভব হবে না।’ আর কোনো কথা বলেনি শিবু ।
সেদিন রবিবার। মনোহর বাবু চাষের কাজ সেরে মিত্তিরদের শান বাঁধানো ঘাটে স্নান করতে গিয়েছিলেন । স্নান সেরে সিঁড়িদিয়ে ওঠবার সময় ঘটে যায় দুর্ঘটনাটি। সিঁড়িগুলোতে শ্যাওলার পুরু স্তর জমে ছিল। তাতেই পা হড়কে পড়ে যান মনোহরবাবু ।মাথায় আঘাত লাগে। সামান্য রক্তপাতও হয়েছিল । ছুটির দিন। শিবশঙ্কর বাড়িতেই ছিল। তার স্ত্রী কমলা রান্নাবান্না করছিল। মনোহরবাবুকে পাড়াপড়শীরাই বাড়ী পর্যন্ত পৌছে দিয়ে গেল।শিবশঙ্কর বাবাকে নিয়ে প্রচন্ড উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল। শরীরে আঘাত হয়তো ততটা ছিল না , কিন্তু মাথায় চোট লাগার ফলে চোখদুটো বরাবরের জন্য নষ্ট হয়ে যায়।

শিবশঙ্কর শহর থেকে মনোহরবাবুর চোখের অপারেশন করিয়ে আজি বাড়ি ফিরেছে। এই কয়দিনে মনোহরবাবু বেশ খানিকটা রোগা হয়ে গিয়েছেন। মুখ দেখলেই বোঝা যায় শরীরটাও বেশ দুর্বল । শিবশঙ্কর মনোহরবাবুকে বললো, বাবা তোমার এখন আর মাঠে যাওয়া হচ্ছে না। ডাক্তারবাবু বলেছেন, ‘বিশ্রাম নিতে হবে।’ মনোহরবাবু সেদিন কোনো কথা বলেননি ,কেবল ঘাড় নেড়ে ছেলের কথায় সম্মতি জানিয়ে দিয়েছিলেন।
গভীর রাত । বাইরে ঝিঁঝিঁর ছাড়া আর কিছুই শোনা যাচ্ছে না । হঠাৎ মনোহরবাবুর চিৎকার শোনা গেল। তিনি শিবু ‘…..শিবু। ….’ বলে অনবরত ডেকে চলেছেন। শিবু আর তার স্ত্রী’ কমলা দুজনেরই ঘুম ভেঙে গেল। তারা ছুটে গেল মনোহরবাবুর ঘরের দিকে । গিয়ে দেখলো – মনোহরবাবুর কাঠ হয়ে বসে রয়েছে। মেঝেতে কাঁচের গ্লাসটা ভেঙ্গে পড়ে আছে। শিবু জিজ্ঞাসা করল, ‘কি হয়েছে ,বাবা’? এমন ভাবে ডাকছো কেন? মনোহরবাবু আমতা আমতা করে বললেন জল। ..জল খাব । কমলা জল আনতে চলে গেল। কিছুক্ষনের মধ্যে নিয়ে ফিরে এল। জল খেয়ে মনোহরবাবু কিছুটা সুস্থির হয়ে জড়িয়ে জড়িয়ে বললেন , শিবু আমি আবার সেই লোকটাকে দেখলাম । প্রথমে একটা অদ্ভুত হাসিতে
আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়। ঘুম ভেঙ্গে দেখি সেই লোকটা ওই দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। এবার সে যেন আরও ভয়ঙ্কর । তার চোখ দুটো নেই তা আমি আগেই বলেছিলাম। এখন দেখলাম, তার সেই চোখের কোটর থেকে চুঁইয়ে চুঁইয়ে রক্ত পড়ছে । আর সেই লোকটার চোখ না থাকা স্বত্তেও ক্রমশই ধীরে ধীরে আমার দিকে এগিয়ে আসছে । তোরা তো জানিস ,আমি সহজে ভয় পাই না । কিন্তু এই দৃশ্য দেখার পর আমি যেন কেমন হয়ে গেলাম। গলা দিয়ে কোন শব্দ বেরুতে চাইছিল না । টেবিল থেকে জলের গ্লাসটা তুলে জল খেতে গেলাম । হাত প্রচন্ড কাঁপছিল ।তাই ওটাও হাত থেকে পরে গেল । তবুও নিজেকে সংযত করে তোদের প্রানপনে ডাকতে লাগলাম । তোরা এখানে আসার আগেই সে যেন হওয়ার মতো মিলিয়ে গেল। কোনরকমে কথাগুলো শেষ করলেন।
এখন শীতকাল। তবুও মনোহরবাবু দরদর করে ঘামছিলেন । শিবশঙ্কর বিস্মিত হয়ে বললো, ‘বাবা তুমি ভুল দেখোনি তো ? ছেলের মুখে এই কথা শুনে মনোহরবাবু উত্তেজিত হয়ে জবাব দিলেন ,ভুল ! পরপর দুইবার একই জিনিস দেখলাম, এটা কখনো চোখের ভুল হতে পারে? এ জিনিস দেখবার চেয়ে , আমার অন্ধ হয়ে থাকাটাই ভালো ছিল ।

পরদিন কলেজ সেরে শিবশঙ্কর বাড়িতে না ফিরে সোজা চলে গেল ডঃ মুন্সির বাড়িতে। ডঃ মুন্সির বাড়ি মফস্বল এলাকায়। তিনি শহরের একটি নার্সিংহোমে কাজ করেন , প্রতিদিনের যাতায়াত। শিবশঙ্করের ডঃ মুন্সির বাড়ি পৌঁছেতে সন্ধ্যা ছ’টা বেজে গেল। ডঃ মুন্সি বাড়িতেই ছিলেন। তিনি শিবশঙ্করকে দেখে বললেন আরে শিবশঙ্করবাবু যে আসুন আসুন। তা এখন মনোহরবাবুর কি খবর? শিবশঙ্কর বলল, ‘বাবার জন্যই আপনার কাছে আসা।’ ডাক্তারের কপালে চিন্তার ভাঁজ দেখা দিল। বিস্মিত হয়ে তিনি বললেন, কেন? আবার কি হলো? শিবশঙ্কর বলল ভেতরে চলুন, সব বলছি।
ডঃ মুন্সি ও শিবশঙ্কর ভেতরে গিয়ে বসতে ডঃ মুন্সির কম্বাইন্ড হ্যান্ড ভোলা ওদের দুজনকে চা দিয়ে গেলো। ডঃ মুন্সিই প্রথমে বললেন, বলুন কি হয়েছে? শিবশঙ্কর চায়ের কাপ টেবিলে নামিয়ে রেখে বলল, ‘সেদিনের ঘটনাটা আপনার মনে আছে’? ডঃ মুন্সি বললেন, ‘কোন দিন ?’ শিবশঙ্কর বলল, যেদিন বাবার অপারেশনের পর প্রথম চোখ খোলা হল, আমি সেই দিনটার কথা বলছি।’ ডঃ মুন্সি বললেন, ‘ও! ঐ দিনটা ! হ্যাঁ মনে আছে। ওই দিন মনোহরবাবু প্রথম চোখ খোলার পর এক অপরিচিত বৃদ্ধ লোককে দেখতে পান। ওটা হয়ত ওনার চোখের ভুল ছিল।’ শিবশঙ্কর দৃঢ় কণ্ঠে বলল ,’ভুল নয় ,ডঃ মুন্সি। আমার বাবার বাহান্ন -তিপান্ন বছর বয়স হলেও চশমা ছাড়াই সমস্ত কিছু দেখতে পান । নার্ভও বেশ শক্ত । তাছাড়াও, সবচেয়ে বড় কথা একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। আমি এর পিছনে আসল রহস্যটা জানতে চাই।’
ডঃ মুন্সি শিবশঙ্করের কথা শুনে প্রচন্ড ঘাবড়ে গেলেন । তিনি আমতা আমতা করে বললেন,’ এর পিছনে আবার রহস্য কি থাকবে?’ হয়তো আপনার বাবাই ভুল দেখেছেন।’ শিবশঙ্কর বলল,ডাক্তারবাবু ,দয়া করে আপনি সমস্ত কথা আমায় খুলে বলুন । এই ঘটনার পর থেকে আমার বাবা মানসিক ও শারীরিক দিক থেকে বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছেন । ডঃ মুন্সি শিবশঙ্করের দিকে একবার তাকিয়ে, মাথা নিচু করে বললেন, ‘আপনি যখন জানতে চাইছেন তখন আমি আপনাকে সমস্ত কিছু খুলে বলবো। কিন্তু বিশ্বাস করুন আমি ভাবতে পারি বিষয়টা এত গুরুতর হয়ে উঠবে। এতে আমার কোনো দোষ নেই।’
শিবশঙ্কর বলল ঠিক আছে,। আপনি ঘটনাটা বলুন।’
ডঃ মুন্সি বলতে শুরু করলেন, ‘আমি চোখের ডাক্তার, চোখ অপারেশনের পাশাপাশি মানুষ যাতে মারা যাবার পর তাদের চোখ দুটি আমাদের আইব্যাঙ্কে জমা দিয়ে যেতে পারেন — সেই বোঝানোর কাজটিও করে থাকি। আমার বাবা দীর্ঘদিন ধরে রোগে ভুগছিলেন। ডাক্তারও বলেছিলেন বাঁচবার কোনো সম্ভাবনা নেই। আমি বাবাকে অনুরোধ করেছিলাম , তিনি যেন মারা যাবার পর আমাদেরকে তাঁর চোখ দু’টি দান করে যান তাতে অন্তত একজন অন্ধ মানুষ আবার দৃষ্টি ফিরে পাবে। আমার এই প্রস্তাবে বাবা অত্যন্ত উত্তেজিত হয়ে উঠলেন। তিনি বললেন,” আমি মারা যাবার পর আমাকে সবসুদ্ধ নিয়ে গিয়ে চিতায় তুলবি । মনে থাকে যেন ।” আমি সেদিন বাবাকে আর কিছু বলিনি । আজ প্রায় এক মাস হতে চললো আমার বাবা মারা গেছেন । আমি বিজ্ঞানের ছাত্র। ভূত-প্রেত, প্রেতযোনী বা পরজন্মে বিশ্বাস করিনা। তাই বাবার জীবিত অবস্থায় অমত সত্বেও আমি বাবার চোখ দুটি আমাদের আইব্যাঙ্কে জমা করে দিই ।এরপর আপনার বাবা আমার পেশেন্ট হয়ে এলেন। আমি বাবার চোখ দুটিই মনোহরবাবুর চোখে বসিয়ে দিলাম । এরপর উনি চোখ খুলে প্রথমে যার বর্ণনা দিলেন ,তা শুনে আমি নিজেই ঘাবড়ে গেলাম । সেই চেহারার বর্ণনা পুরোপুরি আমার বাবার সঙ্গে মিলে গিয়েছিল । তবুও আমি পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিলাম। তারপর থেকে আমি বারবার ভেবেছি, কাজটা আমি মোটেও ঠিক করিনি। এই কথা চিন্তা করে করে আমার শরীরও ভেঙ্গে পড়েছে। আবারও বলছি, আমি বিজ্ঞানের ছাত্র,তাই মনকে বারবার বোঝাতে লাগলাম — ভুল , এটা কখনো সম্ভব নয়। কিন্তু মন এক মুহূর্তের জন্যও প্রবোধ মানলো না । ভেবেছিলাম দিন কয়েক পরে আমি একবার আপনাকে ফোন করবো। কিংবা, একদিন নিজেই গিয়ে মনোহরবাবুকে দেখে আসবো। কিন্তু  দেখলাম তারও আর দরকার হল না। আপনি নিজেই চলে এলেন ।’— এই পর্যন্ত বলে ডঃ মুন্সি চুপ করলেন। শিবশঙ্কর  বলল আমিও এসবে  বিশ্বাস করতাম না। কিন্তু, এখন যা সব ঘটে চলেছে তাতে  বিশ্বাস না করে থাকি কেমন করে?  ডঃ মুন্সি  ধীরে ধীরে  মাথা তুলে বললেন, তাহলে এখন কি করা যায়? শিবশঙ্কর চিন্তা করতে করতে বললো,’ আমার মনে হয় আপনি গয়ায় গিয়ে আপনার বাবার পিন্ডদান করে আসুন তাহলে বোধহয় উনি  মুক্তি পেয়ে যাবেন।

শিবশঙ্করের কথা শেষ হতে না হতেই হঠাৎ লোডশেডিং হয়ে গেল। গোটা ঘর অন্ধকার। ডঃ মুন্সি হাঁক দিলেন ,ভোলা ,ভোলা … তাড়াতাড়ি একটা মোমবাতি নিয়ে যায়।’ আচমকা উত্তরের খোলা জানালা দিয়ে একটা ঠান্ডা বাতাস ঘরে প্রবেশ করল। তারপরই শোনা গেল একটা বিকট অট্টহাস্য। শিবশঙ্কর ও ডঃ মুন্সি উভয়েই ভয়ে কাঠ হয়ে গেলন । হাসি থামাতে অন্ধকার ভেদ করে বেরিয়ে একটা বীভৎস মূর্তি। তার চোখ দুটো ভাঁটার মতো জ্বলছে। সে বলে উঠল, ‘শঙ্করবাবু, আপনাদের আর কিছুই করতে হবেনা। আমার ছেলে সত্যকে আমি বারন করেছিলাম, ও কোন কথা শোনেনি। আমি আমার সম্পত্তি ফিরে পেয়েছি। এবার আমি সত্যিই এই জগতের মায়া কাটিয়ে চলে যাব।
চাকর ভোলা মোমবাতি নিয়ে আসার আগেই, আবার বৈদ্যুতিক বাতি জ্বলে উঠল । দুজনের মুখে কোন কথা নেই। শিবশঙ্কর নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, ডঃ মুন্সি,” নিজের সম্পত্তি ফিরে পেয়েছি” কথার মানেটা কি? তাহলে কি?… শিবশঙ্কর আর কিছু ভাবতে পারল না , সে প্রায় দৌড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়ে মোটরসাইকেলে উঠল। প্রায় রাত ন’টা।
শিবশঙ্কর দ্রুত মোটরসাইকেল চালিয়ে প্রায় পৌনে এগারোট নাগাদ বাড়ি ফিরল । বাড়ির পরিবেশ পুরো থমথমে । বাড়িতে ঢুকে শিবশঙ্কর দেখল ,কমলা তার জন্য অপেক্ষা করতে করতে ডাইনিং টেবিলে বসে ঢুলছে। শিবশঙ্কর ছুটে গিয়ে কমলাকে জিজ্ঞেস করল,’কমলা বাবা কোথায়?’ শিবশঙ্করের এ আচরণে বিস্মিত হয়ে গেছে। সে প্রায় অবাক হয়েই উত্তর দিল , ‘কেন? কি হয়েছে ? উনি তো ওনার ঘরেই আছেন। আমি সাড়ে আটটা নাগাদ ওনাকে খাবার দিয়ে এসেছি।’ শিবশঙ্কর আর অপেক্ষা না করে সোজা বাবার ঘরে চলে গেলো। তার পিছু পিছু কমলাও গিয়ে হাজির হল। শিবশঙ্কর ঘরের ভেতরঢুকতে পারল না । ঘরের চৌকাঠ পর্যন্ত এসে এক মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল। শিবশঙ্কর দেখছে,– টেবিলে খাবার সাজানো আছে। মনোহরবাবুর শরীরটা চেয়ারে নেতিয়ে পড়েছে।সদয় অপারেশন করা চোখ দুটো আর নেই। চোখের শূন্য কোটর থেকে রক্ত চুঁইয়ে পড়ছে ।

                                                       শুভঙ্কর ঘোড়ুই

[:]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Latest Blog

  • বাই বাই একাকিত্ব

    April 1, 2019 Read more
  • সহস্র হ্রদের দেশঃ ফিনল্যান্ড

    March 28, 2019 Read more
  • পথের পাঁচালি ও ভাগলপুরের বাঙালি সমাজ

    March 28, 2019 Read more
View All

Contact Us

(033) 23504294

orders@devsahityakutir.com

21, Jhamapukur Lane, Kolkata - 700 009.

Book Shop

View All